দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অবরোধের ফলে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্থানীয় ‘জাদু মেম্বার’ ও ‘ভুট্টু’ নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে এই সিন্ডিকেট নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষকেরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। সারের সংকটে বাধ্য হয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, “যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবু যেন ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমেছি।”
একই ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ডিলারের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, কালোবাজারে সার বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভুট্টা চাষে সারের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, আগাম ভুট্টা চাষের এ সময়ে ঠিকমতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায় এবং ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সারা বছর তাঁদের সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। তাই সময়মতো সার না পেলে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষকদের অভিযোগ ও সারের সংকট প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, কৃষি বিভাগে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দ থেকেও সার দেওয়া হবে। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে, যা আগামী দুই দিনের মধ্যে শেষ হবে। এখানে কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে। যাঁদের সার কার্ড আছে, তাঁরা সবাই সার পাবেন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কৃষকেরা তাঁর কথা শুনে কার্ড জমা দিয়েছেন। কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সার বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।
এমএস/